ঢাকা , বুধবার, ১০ জুন ২০২৬ , ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যশোর ৫ মণিরামপুর আসনে ভোটকেন্দ্র নজরদারিতে সিসি ক্যামেরা ও ড্রোন


আপডেট সময় : ২০২৬-০২-০৮ ১২:৪০:৩৩
যশোর ৫ মণিরামপুর আসনে ভোটকেন্দ্র নজরদারিতে সিসি ক্যামেরা ও ড্রোন যশোর ৫ মণিরামপুর আসনে ভোটকেন্দ্র নজরদারিতে সিসি ক্যামেরা ও ড্রোন
 
আব্দুল্লাহ আল মামুন, যশোরঃ- 
 
ভোটের আমেজ আর শঙ্কা-দুইয়ের সমীকরণে দাঁড়িয়ে এখন যশোরের মণিরামপুর। ৩ লাখ ৭৪ হাজার ভোটারের এই জনপদে এবারের নির্বাচন যেন কেবল ব্যালটের লড়াই নয়, বরং নিরাপত্তার এক বিশাল পরীক্ষা। অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা আর রাজনৈতিক উত্তেজনা বিশ্লেষণ করে উপজেলার ২০টি এলাকাকে ‘রেড জোন’ বা অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন।
 
তবে এবার মাঠের পাহারার পাশাপাশি আকাশ থেকেও বাজপাখির মতো নজরদারি চালাবে ড্রোন। ভোটারদের মনে ভরসা জোগাতে টহলে থাকছে সেনাবাহিনী ও বিজিবিসহ যৌথ বাহিনীর সদস্যরা।
 
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বিগত নির্বাচনগুলোতে যেসব এলাকায় সহিংসতা বা কেন্দ্র দখলের মতো ঘটনা ঘটেছে, মূলত সেগুলোকেই রেড জোনের তালিকায় রাখা হয়েছে। এসব এলাকায় সাধারণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি বিজিবি ও সেনাসদস্যদের বিশেষ স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন থাকবে। জোরদার করা হয়েছে নিয়মিত টহল ও চেকপোস্ট। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, রেড জোন ঘোষণার মূল লক্ষ্য কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, বরং আগাম প্রতিরোধের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা।
 
প্রযুক্তির ব্যবহারে এবার বড় চমক হিসেবে থাকছে ড্রোন নজরদারি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সম্রাট হোসেন ‘মণিরামপুর উপজেলা প্রশাসন’ ফেসবুক পেজের মাধ্যমে জানিয়েছেন, ভোটের দিন ড্রোন ব্যবহার করে কেন্দ্র ও আশপাশের পরিস্থিতি তদারকি করা হবে।

কোনো দুর্গম এলাকা বা সিসি ক্যামেরার নাগালের বাইরে জটলা বা উত্তেজনার খবর পাওয়া গেলে ড্রোন থেকে লাইভ ফুটেজ দেখে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে মোবাইল টিম। এছাড়াও নির্বাচন সংক্রান্ত সকল সচেতনতা মূলক তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে, যে কোন অনলাইন প্রচার প্রচারণা চাই-বাছাই ছাড়া শেয়ার করা/ বিভ্রান্তি ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। উপজেলার ১২৮টি ভোটকেন্দ্রের প্রতিটিতেই সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। কেন্দ্রগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ এই তিন শ্রেণিতে ভাগ করে সাজানো হয়েছে পুরো নিরাপত্তা ছক।
 
মাঠে পুলিশ ও আনসার সদস্যদের পাশাপাশি বড় ভরসা হিসেবে থাকছে সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি পেশিশক্তি প্রদর্শন ঠেকাতে একটি জোরালো মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ৩ লাখ ৭৪ হাজার ২৫২ জন ভোটারের এই জনপদে নির্বিঘ্নে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন করাই এখন স্থানীয় প্রশাসনের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
 
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, রেড জোন, ড্রোন এবং যৌথ বাহিনীর এই সমন্বিত উদ্যোগ সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। তবে প্রযুক্তির আয়োজন ও বাহিনীর উপস্থিতির পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে এর নিরপেক্ষ প্রয়োগই একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে পারে। সব প্রস্তুতি ঠিকঠাক বাস্তবায়িত হলে মণিরামপুরে এবার একটি উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ ভোট দেখার প্রত্যাশা করছেন সাধারণ মানুষ।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

প্রতিবেদকের তথ্য

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ